৩০/০৯/২০২০ ০৯:১৬:১৫

matrivhumiralo.com পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন

প্রতি মুহূর্তের খবর

o শান্তিরক্ষা মিশনে গৌরবময় অর্জন রয়েছে নারী পুলিশ o নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে পুলিশের মহড়া o অসহায় মানুষের পাশে পথশিশু ফাউন্ডেশন o অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ o মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  স্বাস্থ্য  >  বেড়েছে চিকনগুনিয়া ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ এবং মশা থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক উপায়

বেড়েছে চিকনগুনিয়া ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ এবং মশা থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক উপায়

পাবলিশড : ১৭/০৫/২০১৭ ১৯:৩২:৩৯ পিএম
বেড়েছে চিকনগুনিয়া ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ এবং মশা থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক ::

সারাদেশে বেড়েছে চিকনগুনিয়া ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ। সম্প্রতি কয়েক দফা বৃষ্টিপাতের পর এডিস মশার মাধ্যমে ছড়াচ্ছে চিকনগুনিয়া। বিশেষ কোন প্রতিষেধক না থাকায় আক্রান্তদের প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ও বেশি বেশি পানি খাওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের। সমস্যা সমাধানে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে দাবি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

শরীরে ১০৩ ডিগ্রি জ্বর। সারা গায়ে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে কাহিল সিকিউরিটি গার্ড আজাহার। চিকনগুনিয়া ভাইরাস জ্বর একে একে আক্রান্ত করেছে একই ঘরের ৫ জনকে। জ্বর, মাথাব্যথা, চোখ জ্বলা, বমির ভাবসহ নানা উপসর্গ দিয়ে শুরু হওয়া এ ভাইরাস ব্যাপকভাবে দুর্বল করছে দেশের অসংখ্য মানুষকে।
আজাহার বলেন, 'বমি আসে কোনো কিছু খেতে পারি না। শরীর দুর্বল লাগে।'
চিকিৎসকরা বলছেন, চিকনগুনিয়া জ্বর ৫/৬ দিনের মধ্যে ভাল হলেও শরীরে গিরায় গিরায় ব্যথা ১ মাসেরও বেশি সময় পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে ৩ দিনের জ্বর ও ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে কোন ভাবেই এন্টিবায়োটিক সেবন না করার পরামর্শ চিকিৎসকদের।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন বলেন, 'প্যারাসিট্যামল ছাড়া আর কোনো জ্বর কমানোর ওষুধ সেবন করা যাবে না। চিকুনগুনিয়া রোগে প্যারাসিট্যাসল ছাড়া অন্যসব ওষুধ সেবনে রক্তক্ষরণ হতে পারে।'
দেশে প্রথমবারের মত চিকনগুনিয়া আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য মানুষ আসছে হাসপাতালে। ডেঙ্গু জ্বরের মতই এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাসে মৃত্যু ঝুঁকি না থাকায় কেবল প্রেসক্রিপশন দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে সমস্যা সমাধানে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ডিজি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'আমরা সারা দেশের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তাদের নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করেছি চিকনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে।'
এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে কমতে পারে চিকনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব। তবে এ রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে ঘরের টবের পানিসহ বাড়ির আশেপাশে ছোট জলাধার প্রতিদিন পরিষ্কার রাখার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

মশা থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক উপায় : 

কখনও ভেবেছেন, যে যুগে মশা মারার কয়েল বা স্প্রে ছিল না তখন মানুষ মশা তাড়াতো কিভাবে? আদিকালে মানুষ নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য নানা ধরনের প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করতো। এসব কৌশল অবলম্বন করে আপনিও মশার যন্ত্রণার স্থায়ী সমাধান পেতে পারেন। তবে জেনে নিন, ঘরকে মশা মুক্ত রাখার প্রাকৃতিক কিছু পদ্ধতি।

লেবু ও লবঙ্গের জাদু:

সম্পূর্ন লেবু অর্ধেক করে কেটে নিয়ে লেবুর ভেতরের অংশে অনেকগুলো লবঙ্গ গেঁথে দিন। লবঙ্গ গাঁথার সময় খেয়াল রাখুন, লবঙ্গের পুরো অংশটা ঢুকাবেন না এবং লবঙ্গের মাথার দিকের অংশটা যেন বাহিরে থাকে। এবার লেবুর টুকরোগুলো আপনি চাইলে প্লেটে করে ঘরের ভেতর বা জানালার গ্রিলে ঝুলিয়ে দিতে পারেন। এতে করে বেশ কয়েকদিন ঘরে কোন মশা ঢুকবে না। 

কর্পূরের ব্যবহার:

কর্পূরের গন্ধ পেলেই মশা তল্পিতল্পা নিয়ে পালায়। ফার্মেসি থেকে কর্পূরের ট্যাবলেট কিনে নিন। একটি ছোট বাটিতে একটি ৫০ গ্রামের কর্পূরের ট্যাবলেট রেখে বাটিটি পানি দিয়ে পূর্ণ করুন এরপর এটাকে ঘরের কোণে রেখে দিলে তাৎক্ষণিক মশা গায়েব হয়ে যাবে। দুই দিন পর পর পানি পরিবর্তন করুন। তবে আগের পানিটা ফেলে দেয়ার মতো ভুল করবেন না। এই পানি দিয়ে ঘর মুছলে ঘরে একটি পিঁপড়েও ঢুকবে না। 

রসুনের স্প্রে:

রসুনের গুণ বলে শেষ করা যাবে না। তবে মশা তাড়াতে যে রসুন কতোটা কার্যকর, সেটা জানা থাকলে মশাকে ভয় পেতে ভুলে যাবেন নি:সন্দেহে। রসুনের স্প্রে মশা তাড়াতে খুবই কার্যকারী। ৫ ভাগ পানিতে ১ ভাগ রসুনের রস মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি একটি বোতলে ভরে শরীরের যেসব স্থানে মশারা কামড়াতে পারে সেসব স্থানে স্প্রে করুন। এতে ত্বকের কোন ক্ষতি হবে না এবং মশারা আপনাকে ভয় পেতে শুরু করবে। 

নিমের তেলের ব্যবহার:

ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী নিমের তেল। একই সঙ্গে মশা তাড়ানোর মতো জটিল কার্যক্ষমতাও রয়েছে নিমের। তাই একই সাথে দুই উপকার পেতে ব্যবহার করতে পারেন নিমের তেল। সমপরিমাণ নিমের তেল ও নারকেল তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন। ব্যাস, নিমের গুণে আপনার সুন্দর ত্বকে মশা বসার মতো ভুল কখনোই করবে না। 

পুদিনার ব্যবহার:

জার্নাল অফ বায়োরিসোর্স টেকনোলোজির গবেষণা মতে, তুলসি ও পুদিনা পাতায় রয়েছে মশা দূরে রাখার ক্ষমতা। এছাড়াও পুদিনার গন্ধের ভয়ে মশা ছাড়া আরো অনেক ধরণের পোকামাকড় আপনার ঘর থেকে দূরে থাকবে। পানিতে পুদিনা পাতা ছেঁচে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এরপর পানির এই ধোঁয়া পুরো ঘরে ছড়িয়ে দিন। দেখবেন একটি মশাও থাকবে না। আপনি চাইলে পুদিনা পাতার তেলও গায়ে মাখতে পারেন। এতে ত্বকেরও অনেক উপকার হবে।

এ বিভাগের সর্বশেষ